Simple Social Image Hover Sharing Plugin for Blogger – Blogspot

Slider

sndrk থেকে নেওয়া থিমের ছবিগুলি. Blogger দ্বারা পরিচালিত.

Video

Article

News

Technology

Life & style

Gallery

Sports

» » » যাকাত কেন দিবেন ? কোথায় দিবেন ?



ইসমাইল খান  :

ম্মানিত মুসলিম ভাই ও বোনেরা। আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ ।
 রহমত, বরকত, মাগফিরাত ও নাজাতের আহবান নিয়ে আমাদের মাঝে সমাগত পবিত্র মাহে রমযান।

মহান আল্লাহ তায়ালা তার প্রিয় বান্দাদের তাকওয়া বা আল্লাহ ভীতি অর্জনের মূল লক্ষই নির্ধারণ করেছেন এ মাসে। সূরা আল বাকারার ১৮৩ নম্বর আয়াতে মহান আল্লাহ বলেন ‘‘হে ঈমানদার লোকেরা তোমাদের উপর রোজা ফরয করা হয়েছে যেমন ফরয করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের উপর যেন তোমরা তাকওয়া অর্জন করতে পারো ”।

রোজা আমাদের যেমন ক্ষুধায় কাতর দুঃখী মানুষের প্রতি মমত্ববোধ জাগিয়ে তোলে তেমনি প্রদান করে ধৈর্য্য, একনিষ্ঠতা, ত্যাগ, সহমর্মিতা ও ভ্রাতৃত্ববোধের অনুপম শিক্ষা আর প্রেরণা যোগায় শোষণ, ক্ষুধা, দারিদ্রতা ও বৈষম্যমুক্ত একটি আদর্শিক সমৃদ্ধ সমাজ ও দেশ গড়ার।

রমযানে একমাস সিয়াম সাধনার পর ক্ষুধা, দারিদ্রতা ও বৈষম্য মুক্ত একটি আদর্শিক সমাজ গড়ার মহান লক্ষযে আল্লাহ সমাজের বিত্তশালীদের উপর যাকাত ফরজ করে দিয়েছেন এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তায়ালা বলেন ধ্বংশ ওইসব মুশরিকদের জন্য যারা যাকাত দেয়না এবং আখিরাতকে অস্বীকার করে” (হা-মীম আস-সিজদা ৬-৭)

যাকাত কি ?
যাকাত ইসলামী অর্থব্যবস্থার একটি ফরজ (অতীব গুরুত্বপূর্ণ ) বিধান। ঈমান আনা ও নামাজ আদায়ের পর যাকাত নিয়মিত আদায় করেই একজন বিত্তবান ব্যক্তি মুসলিম সমাজের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করতে পারেন। যাকাতের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে অপরের জন্য স্বার্থত্যাগের মানসিকতা সৃষ্টি, কৃপণতা বর্জন, দারিদ্র্য বিমোচন ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনের মাধ্যমে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভ করা।

 যাকাত কাকে বলে :
যাকাতশব্দটির অর্থ পবিত্রকরণ, পরিশুদ্ধকরণ ও প্রবৃদ্ধি। শরিয়তের পরিভাষায়- ইসলাম নির্দেশিত পন্থায় সচ্ছল মুসলিম নারী ও পুরুষ কর্তৃক সামাজিক সহায়তা এবং জনকল্যাণের উদ্দেশ্যে কুরআনে বর্ণিত নির্দিষ্ট আটটি খাতে নির্দিষ্ট সম্পদ থেকে, নির্দিষ্ট পরিমাণ ও নির্দিষ্ট সময়ে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন, আত্মশুদ্ধি ও সম্পদের পবিত্রতার জন্য যে সম্পদ ব্যয় করা হয় তাই যাকাত।

 যাকাত কেন দিবেন ?
নিসাব [সাধারণভাবে ৫২.৫ তোলা (ভরি) রুপা বা ৭.৫ তোলা স্বর্ণ বা এর সমমূল্যের সম্পদ) পরিমাণ সম্পদের অধিকারী ব্যক্তির ওপর যাকাত বাধ্যতামূলক। কুরআন মাজিদে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে ৮২ বার যাকাতের কথা বলা হয়েছে। বলা হয়েছে, ‘তোমরা নামাজ কায়েম করো এবং যাকাত দাও’ (সূরা বাকারা : ১১০)।

মহানবী সা: বলেছেন, ‘ইসলামের মূল ভিত্তি পাঁচটি : এই সাক্ষ্য দেয়া যে, আল্লাহ ব্যতীত কোনো ইলাহ নেই এবং মুহাম্মদ সা: আল্লাহর বান্দা ও রাসূল, নামাজ কায়েম করা, যাকাত আদায় করা, হজ সম্পন্ন করা এবং রমজানের রোজা রাখা’ (মিশকাত)। যাকাত বাধ্যতামূলক হওয়ার ব্যাপারে সব যুগের এবং সব দেশের মুসলিম উম্মাহ একমত। সুতরাং যাকাত অস্বীকারকারী মুরতাদ হবে। মহান আল্লাহ বলেন, ‘যারা যাকাত দেয় না তারা হলো সেসব লোক, যারা আখিরাতের প্রতিও অবিশ্বাসী’ (সূরা হা-মীম আস-সাজদা : ৭)।

যাদের ওপর যাকাত ফরজ :
প্রাপ্তবয়স্ক এবং বুদ্ধি-জ্ঞানসম্পন্ন নারী ও পুরুষের মালের ওপর কিছু শর্তসাপেক্ষে যাকাত ফরজ করা হয়েছে। কোনো অমুসলিম ব্যক্তির ওপর যাকাত ধার্য করা যাবে না। অপ্রাপ্তবয়স্ক কোনো বালক, বালিকা এবং পাগলের মালের ওপর যাকাত ফরজ নয়।

যেসব শর্তসাপেক্ষে উপরোক্ত ব্যক্তির মালের ওপর যাকাত ধার্য হয় তা হলো : ১. মালের ওপর পূর্ণ একটি (চন্দ্র) বছর তার পূর্ণ মালিকানা বিদ্যমান থাকতে হবে, ২. মাল এমন প্রকৃতির হতে হবে যার ওপর যাকাত ধার্য হতে পারে, ৩. মাল নিসাব পরিমাণ বা নিসাবের মূল্যের সমপরিমাণ হতে হবে এবং ৪. ওই নিসাব পরিমাণ মাল তার মৌলিক প্রয়োজনের অতিরিক্ত হতে হবে।

মালিকানা বলতে, ‘কোনো বস্তু ও ব্যক্তির মধ্যকার শরিয়াসম্মত যোগসূত্রকে বুঝায়, যা ব্যক্তিকে ওই বস্তু নিঃশর্তভাবে ভোগ ব্যবহারের অধিকার দেয় এবং অপর লোকের হস্তক্ষেপে বাধা দেয়।নগদ অর্থ, সোনা-রুপা, ব্যবসায়িক পণ্য, পালিত পশু, কৃষিজ পণ্য ইত্যাদির ওপর যাকাত ধার্য হয়। ওয়াকফ সম্পত্তি, সরকারি সম্পত্তি, নিত্যপ্রয়োজনীয় ব্যবহার্য জিনিস, বাড়িঘর ইত্যাদির ওপর যাকাত ধার্য হয় না। কৃষিজ ফসল, ফলমূল ইত্যাদির ক্ষেত্রে পূর্ণ এক বছর মালিকের দখলে থাকা শর্ত নয়। তা যখন আহরিত হয় তখন তার ওপর যাকাত (উশর) ধার্য হয়। সম্পদের চল্লিশ ভাগের এক ভাগ অর্থাৎ শতকরা আড়াই ভাগ যাকাত হিসেবে প্রদান করতে হবে। এ হিসেবে অতিরিক্ত মালের ওপরও যাকাত ফরজ হবে। যাকাত নগদ অর্থ দ্বারাও পরিশোধ করা যায় এবং সংশ্লিষ্ট মাল দ্বারাও পরিশোধ করা যায়।

তৈজসপত্র, অলঙ্কার, বাড়িঘর ও বন্ধকী মালের যাকাত : সাংসারিক কাজে ব্যবহৃত জিনিসপত্র যেমন হাঁড়ি-পাতিল, থালা-বাটি, বিছানাপত্র, পোশাক-পরিচ্ছদ ইত্যাদির ওপর যাকাত ধার্য হবে না। হানাফি মাজহাব মতে, ব্যবহৃত অলঙ্কারপত্রের যাকাত দিতে হবে। মূল্যবান পাথর যেমন- হীরক, মণিমুক্তা ইত্যাদির তৈরি অলঙ্কারের ওপর যাকাত ধার্য হবে না। বাড়ি-ঘর, দালান-কোঠা ও যানবাহনের ওপরও যাকাত ধার্য হবে না। তবে এগুলো ভাড়ায় খাটিয়ে যে আয় পাওয়া যাবে, তা মালিকের অন্যান্য আয়ের সাথে যুক্ত হবে এবং যথানিয়মে এর ওপর যাকাত ধার্য হবে। বন্ধকী মাল বন্ধকমুক্ত হয়ে মালিকের দখলে ফিরে আসার পর এর ওপর যাকাত ফরজ হবে।

ব্যবসায়িক পণ্যের যাকাত : ব্যবসায়ের ইচ্ছায় উৎপাদিত বা ক্রয়কৃত পণ্য দ্বারা বাস্তবে ব্যবসায়িক কার্য সম্পাদিত হলে ওই পণ্যকে ব্যবসায়িক পণ্যবলে। ব্যবসায়িক পণ্যের নিসাব স্বর্ণ ও রৌপ্যের নিসাবের সমপরিমাণ হলে তার প্রতি চল্লিশ টাকায় এক টাকা যাকাত ধার্য হবে। ব্যবসায়ের কেবল আবর্তনশীল মূলধনের যাকাত দিতে হবে। ব্যবসায়ের স্থাবর সম্পত্তি যেমন দালান-কোঠা, জমি, যন্ত্রপাতি ইত্যাদির ওপর যাকাত ধার্য হবে না। মসজিদ-মাদরাসা বা অনুরূপ জনকল্যাণমূলক কাজের উদ্দেশ্যে ওয়াকফকৃত সম্পত্তি দ্বারা ব্যবসা করা হলেও তার ওপর যাকাত ধার্য হবে না। যেসব মালের ওপর সাধারণত যাকাত ধার্য হয় না সেসব মাল ব্যবসায়িক পণ্য হলে তার ওপর জাকাত দিতে হবে। যেমন পাথর, মণিমুক্তা, আসবাবপত্র, তৈজসপত্র, যন্ত্রপাতি, যানবাহন ইত্যাদি।

ঋণ ও যাকাত :
কোনো ব্যক্তির ঋণমুক্ত হওয়াও তার ওপর যাকাত ফরজ হওয়ার জন্য একটি অপরিহার্য শর্ত। তার ঋণের অংক বিয়োগ করার পর নিসাব পরিমাণ মাল না থাকলে তার ওপর যাকাত ফরজ হবে না। তবে ঋণদাতাকে তার প্রদত্ত ঋণ ফেরত পাওয়ার পর যথারীতি এর জাকাত দিতে হবে। যে ঋণ ফেরত পাওয়ার আশা নেই ওই ঋণ ফেরত পাওয়া গেলে অতীতের বছরগুলোর এমনকি ফেরত পাওয়ার বছরের যাকাত প্রদান করতে হবে না। বরং পরবর্তী বছর থেকে যাকাত দিতে হবে। ঋণ গ্রহণ করে ব্যবসায়ের জমি, দালান-কোঠা, যন্ত্রপাতি ও পণ্য ক্রয় করা হলে কেবল পণ্য ক্রয় বাবদ যতটুকু ঋণ খরচ হয়েছে তা থেকে ততটুকু বিয়োগ করার পর ওই পণ্যের ওপর জাকাত ধার্য হবে। জাকাত দেয়ার অভিপ্রায় : যাকাতদাতার যাকাত দানকালে বা মাল হতে যাকাতের অংশ পৃথক করাকালে তার অভিপ্রায় থাকতে হবে যে, সে তার যাকাত পরিশোধ করছে। অভিপ্রায়হীন সব মাল দান করলেও যাকাত আদায় হবে না।

যাকাত পরিশোধের সময় :

যাকাত ফরজ হওয়ার সাথে সাথেই তা পরিশোধ করা ফরজ হয়। যাকাত ফরজ হওয়ার আগে অগ্রিম পরিশোধ করলে তা ধর্তব্য হবে না। যাকাত ফরজ হওয়ার পর পরিশোধের নির্দিষ্ট সময় আসার আগেই যাকাত দেয়া যায়।

কোন কোন খাতে যাকাত দিবেন ?

কুরআনে আল্লাহ তায়ালা যাকাত প্রদানের জন্য শুধু তাকিদই প্রদান করেননি বরং বিশদভাবে তা ব্যয় করার খাতগুলো বলে দিয়েছেন- এ সদকা তো ফকির মিসকিনদের জন্য এবং তাদের জন্য যারা সদকার কাজে নিয়োজিত এবং তাদের জন্য যাদের মন জয় করা উদ্দেশ্য এবং শৃক্সখল মুক্ত করার জন্য। ঋনগ্রস্থদের সাহায্যের জন্য। আল্লাহর পথে এবং মুসাফিরদের জন্য ব্যয় করার উদ্দেশ্যে অবশ্য পালনীয় ফরয আল্লাহর পক্ষ থেকে এবং আল্লাহ সবকিছু সম্পর্কে ওয়াকিফহাল এবং মহাজ্ঞানী।”(সূরা আত তওবাহ ঃ ৬০)
এ আয়াতে যাকাতের আটটি খাতের কথা বলা হয়েছে।(১) ফকির বা দরিদ্র (২) মিসকিন অভাবগ্রস্থ অথচ অন্য কারো নিকট হাত পাতে না (৩) যাকাত আদায় ও বন্টনে নিয়োজিত কর্মচারী (৪) নওমুসলিম (মন জয় করার উদ্দেশ্যে) (৫) শৃংখলমুক্ত করার জন্য (৬) ঋনগ্রস্থদের জন্য (৭) জিহাদ ফি সাবিলিল্লাহ বা আল্লাহর পথে এবং (৮) পথিক বা মুসফিরের জন্য।

যাকাত এ আটটি খাতেই ব্যয় করা যায় এর বাইরে নয়। তবে যাকাতের সমুদয় অর্থ সকল খাতেই ব্যয় করতে হবে বা যে কোন একটি খাতে ব্যয় করতে হবে এমন কোন বাধ্যবাধকতা নেই। আপনি ইচ্ছা করলে আটটি খাতের যে কোন একটি খাতে ও ব্যয় করতে পারেন। আবার উল্লিখিত একাধিক খাতেও ব্যয় করতে পারেন।

কোথায় যাকাত দিবেন ?
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের ধর্ম মন্ত্রনালয়ের একটি যাকাত তহবিল রয়েছে । দেশের অধিকাংশ ব্যাংকে সরকারী যাকাত তহবিল নামে একাউন্টে দিতে পারেন ।

অত্র দক্ষিণ ভবানীগঞ্জ এনায়েতিয়া মাদরাসার গোরাবা ফান্ড রয়েছে, যার মাধ্যমে সারাবছর অসংখ্য মেধাবী ও দরীদ্র ছাত্র/ছাত্রীদের আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়। এ ফান্ডের একমাত্র আয়ের উৎস আপনাদের দানকৃত যাকাতের অর্থ। আপনার যাকাতের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ অত্র মাদরাসার যাকাত ফান্ডে দান করার অনূরোধ করছি। এ খাতে আপনার দান অত্র মাদরাসার প্রায় ১৫০ জন ছাত্র/ছাত্রীর শিক্ষা জীবন হবে আলোকিত। দেশের আদর্শ নাগরিক তৈরীতে যাদের ভূমিকা অপরিসীম।
যাকাতের অর্থ পাঠানোর ঠিকানা : ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড, লক্ষ্মীপুর শাখা, হিসাব নং- 26921

অথবা   


করুন  এই নাম্বারে- +88 01845 985 982

বিনীত-
মুহাম্মদ ইসমাইল হোসাইন খান
প্রধান শিক্ষক ও সেক্রেটারী
দক্ষিন ভবানীগঞ্জ এনায়েতিয়া ইবতেদায়ী মাদরাসা
ভবানীগঞ্জ, সদর- লক্ষ্মীপুর।
বিকাশ নং- +88 01845 985 982








«
Next
নবীনতর পোস্ট
»
Previous
This is the last post.

কোন মন্তব্য নেই:

Leave a Reply