Simple Social Image Hover Sharing Plugin for Blogger – Blogspot

Slider

sndrk থেকে নেওয়া থিমের ছবিগুলি. Blogger দ্বারা পরিচালিত.

Video

Article

News

Technology

Life & style

Gallery

Sports

কুরআন মাজীদ হোক শিশুর প্রথম অধ্যায় -- মাওলানা ইসমাইল হোসাইন আজাদী



কুরআন মাজীদ হোক শিশুর প্রথম অধ্যায়

- মাওলানা ইসমাইল হোসাইন আজাদী

 

অনেকে কুরআন মাজীদকে শুধু মুসলিমদের জন্য ব্যাকেট বন্ধী করে ফেলেছেন ! এটা ঠিক নয়। কেননা এ বিশ্বের সৃষ্টি কর্তা মহান আল্লাহ কুরআন প্রেরণ করেছেন সকল মানুষের জন্য। কোন বিশেষ ধর্ম-বর্ণ বা গোত্রের জন্য নয়।

 

শিশু-কিশোরদের সর্বপ্রথম কোরআনের পাঠদান করা উচিত। কোরআনের মাধ্যমে শিক্ষাজীবন শুরু করলে শিশুর জীবন বরকতময় হবে, হতে অত্যন্ত আনন্দময়। শিশু সৃষ্টি কর্তার অনুগ্রহ লাভ করবে। তা ছাড়া অভিজ্ঞতা বলে, শৈশবে শিশুরা অন্য বিষয়ের পাঠ গ্রহণ করতে না পারলেও তারা কোরআন রপ্ত করতে পারে। শৈশবই কোরআন শেখার সর্বোত্তম সময়।

 কেননা শৈশবে শিশুর মন বিক্ষিপ্ত থাকে না, তারা পূর্ণ মনোযোগসহ কোরআন শিখতে পারে। শিশুর জীবনে এর প্রভাবও অত্যন্ত ইতিবাচক। মুসলিম সমাজ ও সভ্যতার ঐতিহ্য হলো শিশুরা কোরআনের পাঠ গ্রহণের মাধ্যমে তাদের শিক্ষাজীবন শুরু করবে। কোরআন না শেখা পর্যন্ত অন্যান্য ইসলামী জ্ঞানের পাঠ তাদের দেওয়া হতো না।

  


        ইমাম নববী (রহ.) বলেন, ‘পূর্বসূরি আলেমরা কোরআন মুখস্থ না করা পর্যন্ত কাউকে হাদিস ও ফিকহ শেখাতেন না।’ (আল-মাজমু : /৩৮)

বড় হলে নিজে নিজে কোরআন পড়ে নেবে, এমন চিন্তা থেকে কেউ কেউ শিশুকে কোরআনের শিক্ষা থেকে বঞ্চিত রাখে। অভিজ্ঞতা বলে, এমন শিশুদের বেশির ভাগই পরবর্তী জীবনে কোরআন শেখার আগ্রহ খুঁজে পায় না। আর কেউ আগ্রহী হলেও কাজটি তাঁর জন্য সহজ থাকে না, কঠিন হয়ে যায়।

 

 

পরবর্তী জীবনে একদিকে যেমন একাগ্রতা থাকে না, নানা কারণে মন বিক্ষিপ্ত থাকে, অন্যদিকে তেমন ক্রমেই মানুষের ব্যস্ত বাড়তে থাকে। সময়-সুযোগ বের করাই সম্ভব হয় না। ঘর, সংসার, আয়-রোজগার বহু চিন্তা মাথায় কাজ করে। এত ঝামেলা এড়িয়ে ব্যক্তির পক্ষে কোরআন পাঠের জন্য সময় বের করা এবং তাতে মনোযোগ দেওয়া কঠিন হয়ে যায়।

পারিপার্শ্বিক কারণে শিশুর মনে যদি কোরআন শেখার ব্যাপারে ভীতি সৃষ্টি হয়, তবে তাদের বোঝাতে আল্লাহ মানুষের জন্য কোরআন শেখা সহজ করেছেন।

 

 

ইরশাদ হয়েছে, ‘কোরআন আমি সহজ করে দিয়েছি উপদেশ গ্রহণের জন্য; অতএব উপদেশ গ্রহণকারী কেউ আছে কি?’ (সুরা কামার, আয়াত : ১৭)

শুধু কোরআন নয়; বরং আমি বলব সাধারণ শিক্ষার আগে শিশুকে প্রয়োজনীয় দ্বিনি শিক্ষা প্রদান করা উচিত। কেননা শিশুর মানসপটে প্রথমে যে বিষয়ের চিত্র অঙ্কিত হয়, তার প্রভাবই স্থায়ী ও সুদৃঢ় হয়। তাই শিশুকে প্রথমে দ্বিনি শিক্ষা দেওয়া প্রয়োজন। যদি শিশুকে পূর্ণাঙ্গ ইসলামী শিক্ষা দেওয়া সম্ভব না হয়, তবে কোরআনের কিছু অংশ শিখিয়ে তিলাওয়াত অব্যাহত রাখতে হবে। তারপর কিছু দ্বিনি বই-পুস্তক ও প্রয়োজনী মাসয়ালা-মাসায়েল মাতৃভাষায় হলেও শিক্ষা দিতে হবে। আর এই শিক্ষাটুকু কোনো আলেমের তত্ত্বাবধানে হওয়া উত্তম। কেননা তিনিই প্রয়োজনীয় দ্বিনি শিক্ষার সীমা ও শিক্ষা-সহায়ক বই-পুস্তক নির্ধারণের অধিক যোগ্যতা রাখেন। পাশাপাশি সতর্ক দৃষ্টিও রাখতে হবে। শিশুর ভেতর দ্বিন-পরিপন্থী কোনো বিষয় লক্ষ্য করলে বা ধর্মবিদ্বেষী মনোভাব দেখা দিলে সঙ্গে সঙ্গে তাকে সতর্ক করতে হবে। যদি মনে হয়, এটা শিক্ষার প্রভাব তবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিবর্তন করতেও দেরি করা যাবে না। কেননা আল্লাহ দ্বিনকে দুনিয়ার ওপর প্রাধান্য দিতে বলেছেন।

 

শিশুদের নেক সন্তান হিসেবে গড়ে তুলতে ছোটবেলা থেকেই তার প্রতি যত্নবান হতে হবে। বিশেষত তার মনমানসিকতার প্রতি লক্ষ্য রাখতে হবে। যেন তাদের মন পাপে আসক্ত হয়ে না পড়ে। অনেকে শৈশবে শিশুর অন্যায় আবদারগুলোকে প্রশ্রয় দেয়। যা পরবর্তী সময়ে তাকে সুসন্তান হিসেবে গড়ে তোলার পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। এ জন্য মা-বাবার ইসলামী শিক্ষার অনুশীলন জরুরি। তাদেরই গুনাহমুক্ত পবিত্র পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘হে মুমিনরা, তোমরা নিজেদের ও তোমাদের পরিবার-পরিজনকে আগুন থেকে রক্ষা করো। (সুরা তাহরিম, আয়াত : ৬)

 

তবে শিশু প্রতিপালনে কঠোরতা পরিবর্তে নম্রতা অনুসরণ করাই বাঞ্ছনীয়। কেননা কঠোরতা শিশুর মন বিগড়ে দিতে পারে। তাদের আনন্দমুখর সুন্দর পরিবেশেই শিক্ষার সঠিক পথটি দেখিয়ে দিতে হবে। স্নেহ-মমতা শিশুকে বেশি প্রভাবিত করে শাসন ও কঠোরতার চেয়ে। আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, ‘রাসুল (সা.) দিনের এক অংশে বের হন, তিনি আমার সঙ্গে কথা বলেননি এবং আমিও তাঁর সঙ্গে কথা বলিনি। অবশেষে তিনি বনু কাইনুকা বাজারে এলেন। (সেখান থেকে ফিরে) ফাতেমা (রা.)-এর ঘরের আঙিনায় বসলেন। অতঃপর বলেন, এখানে খোকা! তথা হাসান আছে কি? এখানে খোকা আছে কি? ফাতেমা (রা.) তাঁকে কিছুক্ষণ সময় দিলেন। আমার ধারণা হলো, তিনি তাঁকে পুঁতির মালা, সোনা-রুপা ছাড়া যা বাচ্চাদের পরানো হতো, পরাচ্ছিলেন (সাজিয়ে দিচ্ছিলেন)। তারপর তিনি দৌড়ে এসে তাকে জড়িয়ে ধরলেন এবং চুমু খেলেন। তখন তিনি বলেন, ‘হে আল্লাহ, তুমি তাকে (হাসানকে) ভালোবাসো এবং তাকে যে ভালোবাসে তাকেও ভালোবাসো। ’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ২১২২)




Text Heare






Ebtedayee Somaponi Examination 2018 || Bangla Suggestion || ইবতেদায়ী শিক্ষা সমাপনী বাংলা সাজেশন

Ebtedayee Somaponi Examination 2018 || Bangla Suggestion

ইবতেদায়ী শিক্ষা সমাপনী বাংলা সাজেশন
ইসমাইল এইচ খান




রচনা:
(১).পিতার প্রতি কর্তব্য।
(২).বাংলাদেশী সোনালী আশ।
(৩).সময়ের মুল্যে।
———
কবিতা:
(১).মুনা জাত।
(২).শিক্ষকের মর্যাদা।
(৩).রাখাল ছেলে।
(৪).বাংলা ভাষা।

সারমর্ম:-
(১) নাতে রাসুল।
(২) বাংলা ভাষা।
(৩) শিক্ষকের মর্যাদা।
 (৪) মা।
——

যে কোনো একটি প্রশ্নের উত্তর দাও:-
(১).মাছে ভাতে বাঙালি কথাটির অর্থ কি? আমাদের কে কেন মাছে ভাতে বাঙ্গালী বলে ?
(২) বিদায় হজ্জের ভাষণের মুল বক্তব্য নিজের ভাষায় শিখ?
———
যে কোনো একটি প্রশ্নের উত্তর দাও:-
(১).আপন হাতের মুঠোয় পুরে কথাটির অর্থ কি?
(২). নবীর শিক্ষা কবিতা থেকে আমরা কি শিক্ষা পাই?
(৩).রাখাল ছেলে কবিতায় পল্লী প্রকৃতির কি কী ফুটে উঠেছে?
———

ব্যাখ্যা:-
(১).চ ালাও সে পথে যে পথে তোমার
(২). ভালো মন্দ দোষ গুন আধার রাতে ধরে--ব্যাকরণ
———
 (১). পদ কাকে বলে।পদ কত প্রকার ও কি কি? প্রত্যেক প্রকারের একটি করে উদাহরণ দাও?
(২).ব্যাকরণ কাকে বলে ? ব্যাকরণ পাঠের প্রয়োজনীয়তা কি?
(৩). ক্রিয়া কাল কাকে বলে কত প্রকার ও কি কি?
(৪).ভাষা কাকে বলে? ভাষা কত প্রকার ও কি কি? প্রত্যেক প্রকারের একটি করে উদাহরণ দাও?

Ebtedaee Somaponi Examination Preparation 2018 || Subject : English

Ebtedaee Somaponi Examination Preparation 2018

Subject : English

Read the given text carefully and answer the questions 5, 6, 7, 8 and 9 :

Casabianca was a little boy. He was only thirteen years old. Though he was a little boy, he was punctual and dutiful. His father was a military officer. One day Casabianca was in a ship with his father,� The ship was suddenly attacked by the enemy. leis -father posted him at a place on the deck and told him not to move. The enemy killed his father. The ship�: went on fire. The boy kept standing on the burning �deck. Everybody fled from the fire. But Casabianca did not leave the place without his father�s order. He stood firm and waited for his father. He did not know that his father was lying dead. He called his father again and again. But no reply came. The flames of the fire soon covered him. �The boy stood firm and fell into death.



5. Write only the question number and the answer letter. 1 x 10 = 10 

(f) The ship � fire except Casabinaca.
i. caught ii. was
iii. on iv. is
Answer : i. caught


(g) The boy kept standing on the burning deck. Here standing is �.
i. adjective
ii. noun
iii. verb
iv. adverb
Answer : i. adjective

(h) � fled from the fire.
i. All
ii. None
iii. No one
iv. A few
Answer : i. All

(i) Casabianca � the place.
i. did not leave
ii. left
iii. was leaving the place
iv. will leave
Answer : i. did not leave

(j) Casabianca did not know that his fath was lying �.
i. dead
ii. asleep
iii. alive
iv. none of these
Answer : i. dead

সন্তানকে সার্বক্ষণিক নজরে রাখুন !

সন্তানের মানষিক বিকাশের হালচাল- পর্ব-2
 ------------------------- ইসমাইল এইচ খান ------------------------

সন্তানকে সার্বক্ষণিক নজরে রাখুন !
শুধু ব্লু হোয়েল নয় অধিকাংশ গেমস ই ক্ষতিকারক !
সন্তান কি করছে তা সার্বক্ষণিক মনিটর করা একজন দায়িত্বশীল অভিভাবকের পরিচয় ।



দুঃখজনক হলেও সত্যি যে, একশ্রেণীর প্রগতিবাদী নামের দুর্গতি সৃষ্টিকারীরা শিশু স্বাধীনতা বা নারী স্বাধীনতার নামে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে বিপদের দিকেই ঠেলে দিচ্ছে !


তাই এসব বিষয়ে এখনই আমাদের সতর্ক হওয়া জরুরী ।
লেখক- প্রধান শিক্ষক, অত্র মাদরাসা



আশুরার ইতিহাস



মাওলানা ফয়সল আহমদ জালালী

আশুরা শব্দটি আরবি আশারাহধাতু থেকে এসেছে। আশারাহশব্দের অর্থ হলো দশ। দশম দিবসে আশুরা পালিত হয় বলে একে আশুরা বলে। আর তা হলো মহররম মাসের দশ তারিখে। কেউ কেউ মনে করেন, এই দিন আল্লাহ তায়ালা দশজন নবীকে সম্মানিত করেছিলেন বলে একে আশুরা নামে অভিহিত করা হয়। আশুরা দিবসটির তাৎপর্য প্রাচীনকাল থেকে চলে আসছে। ইহুদিরা আশুরা দিবসে রোজা রাখত। কারণ এই দিন নবী মূসা আ: ফেরাউনের কবল থেকে মুক্তি পেয়েছিলেন। মক্কার মুশরিকরাও আশুরা দিবসে সাওম পালন করত। কারণ তারা দাবি করত তারা ইবরাহিম আ:-এর অনুসারী। হজরত ইবরাহিম আ: এই দিনে জন্মলাভ করেছিলেন; এই দিনেই তিনি নমরুদের আগুন থেকে রক্ষা পেয়েছিলেন। এ ছাড়া আশুরা দিবসে আর যেসব বিস্ময়কর ঘটনা ঘটেছিল তা হলো : এই দিন আদি পিতা হজরত আদম আ: এর তওবা কবুল হয়েছিল।

হজরত নূহ আ:-এর জাহাজ তীরে ভিড়েছিল। ঈসা রুহুল্লাহর জন্ম এই দিনে এবং আকাশে এই দিন তাকে উত্তোলন করা হয়েছিল। ইউনুস আ: কে মাছের পেট থেকে মুক্ত করা হয়েছিল এবং তার কওমকে আজাব থেকে মুক্তি দেয়া হয়েছিল। হজরত ইউসুফ আ: কে কুয়া থেকে উঠানো হয়েছিল। হজরত আইয়ুব আ: দুরারোগ্য ব্যাধি থেকে এই দিন আরোগ্য লাভ করেছিলেন। হজরত ইদ্রিস আ: কে আকাশে উত্তোলন করা হয়েছিল। হজরত সুলায়মান আ: এই দিন সিংহাসনে আবার অধিষ্ঠিত হয়েছিলেন।
আশুরা দিবসের ফজিলত : আশুরা দিবসে সাওম পালনের জন্য রাসূলুল্লাহ সা: নির্দেশ দিয়েছেন। ফলে ইসলামের প্রাথমিক যুগে আশুরার সাওম ফরজ ছিল বলে ধারণা করা হয়। দ্বিতীয় হিজরি সনে রমজানের সাওম ফরজ হওয়ার বিধান নাজিল হলে আশুরার সাওম ঐচ্ছিক হিসেবে বিবেচিত হয়। তবুও তার সওয়াবে কমতি নেই। আবু হুরায়রা রা: থেকে বর্ণিত, ‘তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সা: বলেছেন, রমজানের পর সর্বাধিক উত্তম সিয়াম হলো মহররম মাসের সিয়াম। আর ফরজের পরে সর্বাধিক উত্তম সালাত হলো তাহাজ্জুদের সালাত’ (মুসলিম আস-সাহিহ, ১ম খণ্ড ৩৫৮)। আরো বর্ণিত আছে, ‘আশুরা দিবসের সাওম সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ সা: কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেছিলেন, এর ফলে আগের বছরের গোনাহ মাফ করে দেয়া হয়।’ (মুসলিম, প্রাগুক্ত) 
আয়েশা রা: থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, জাহিলিয়া যুগে কুরাইশরা আশুরা দিবসে সাওম পালন করত। রাসূলুল্লাহ সা: ও সে কালে সাওম পালন করতেন। মদিনায় এসেও তিনি সাওম পালন করতেন এবং অন্যদেরও নির্দেশ দিলেন। রমজানের সাওমের আদেশ নাজিল হলে আশুরা দিবসকে বর্জন করা হয়। এখন কেউ চাইলে তা পালন করুক আর চাইলে তা বর্জন করুক। (বুখারি, আস-সাহিহ, ১ম খণ্ড, পৃ: ২৬৮)।

আশুরা ছিল ইহুদিদের ঈদ দিবস : হজরত আবু মুূসা আল আশআরি রা: থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, আশুরা দিবসকে ইহুদিরা ঈদ হিসেবে গণ্য করত। নবী করিম সা: তা দেখে মুসলিমগণকে নির্দেশ দিলেন, তোমরা এই দিন সাওম পালন করো। (বুখারি, প্রাগুক্ত)।
আশুরার সাওমের অবস্থান : আশুরা সাওমের অবস্থান সম্পর্কে খোদ সাহাবায়ে কিরামের যুগে বিতর্ক জমে উঠেছিল। কেউ একে ওয়াজিব, কেউ সুন্নত আবার কেউ এর বিপরীত একে হারাম বা মাকরুহও আখ্যায়িত করেছিলেন। এক হজের মওসুমে মুআবিয়া রা: বিশেষ করে মদিনার আলেমগণকে ডেকে বললেন, (কারণ তাদের মধ্যে এর চর্চা ছিল বেশি) হে মদিনাবাসী, তোমাদের আলেমগণ কোথায়? আমি রাসূলুল্লাহ সা:-কে বলতে শুনেছি তিনি এ দিবসের প্রতি ইঙ্গিত করে বলেছিলেন, এটি আশুরা দিবস। আল্লাহ এ দিবসের সিয়াম তোমাদের ওপর ওয়াজিব করেননি। তবে আমি এই দিনে সাওম পালনকারী কারো ইচ্ছা হলে সাওম পালন করবে আর কারো ইচ্ছা হলে তা বর্জন করবে। (বুখারি, প্রাগুক্ত, সাওম অধ্যায়)।

আশুরার দিবস নির্ণয়ে বিতর্ক : আশুরার দিবস কোনটি এ নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে কিছু মতানৈক্য রয়েছে। হাদিস শাস্ত্রের প্রসিদ্ধ ভাষ্যকার আল্লামা আইনি বলেন, সাহাবায়ে কেরাম, তাবিয়িন ও তৎপরবর্তীকালের জমহুর ওলামার মতে, আশুরার দিবস হলো, মহররম মাসের দশম দিবসে। তবে আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস রা:-এর মতে, তা হলো নবম দিবসে। কোনো কোনো সাহাবির মতে, তা হলো মহররমের একাদশ দিবসে আবু ঈসহাক উপরিউক্ত তিন দিনই সাওম পালন করতেন। আর বলতেন, আশুরা ছুটে যাওয়ার আশঙ্কা থেকে আমি এ তিন দিন সাওম পালন করি। (পাদটিকা সহিহ বুখার, ১ম খণ্ড, পৃ. ২৬৮)।

আশুরার সাথে পূর্ববর্তী বা পরবর্তী দিন সাওম পালন : বর্ণিত আছে আশুরায় মদিনার ইহুদিদের সাওম পালন করা দেখে রাসূলুল্লাহ সা: তাদের কাছে এর কারণ জানতে চেয়েছিলেন। তারা বলেছিল এটি একটি পুণ্যময় দিবস। বনু ইসরাইলকে আল্লাহ তায়ালা এই দিন শত্রুদের কবল থেকে মুক্তি দিয়েছিলেন। ফলে মুসা আ: এই দিন সাওম পালন করেছিলেন। রাসূলুল্লাহ সা: শুনে বললেন, তোমাদের থেকে আমি মুূসার অনুকরণের উপযুক্ত বেশি। (বুখারি, প্রাগুক্ত)
তবে হুবহু ইহুদিদের অনুকরণ রাসূলুল্লাহ সা: পছন্দ করতেন না। তাই তিনি বলেছিলেন, তোমরা আশুরা দিবসে সাওম পালন করো। সেই সাথে এর আগে এক দিন অথবা পরে এক দিন সাওম পালন করো। সাওম পালনে তোমরা ইহুদিদের সাথে সামঞ্জস্য বিধান করো না। (তাহাবি, শারহু মাআনিল আছার, ১ম খণ্ড, পৃ. ২৮৬)। এ কারণে আল্লামা ইবনুল আবিদীন শামী ও ইবনুল হুমামের মতে, শুধু আশুরা দিবসে সাওম পালন মাকরূহে তানযীহী (ইদাহুল মিশকাত, ২য় খণ্ড ৬৭৭)।

হুসাইন রা:-এর শাহাদাত : আশুরার মহিমা বহু আগ থেকে চলে আসছে। কিন্তু ইসলামি ইতিহাসের একটি ন্যক্কারজনক ঘটনা শাহাদাতে হুসাইন রা: কাকতালীয়ভাবে এ মহান দিনে সংঘটিত হয়েছিল। ঘটনাটি ছিল মুসলিম উম্মাহর জন্য একটি মহা বিষাদ সিন্ধু। আশুরার মহিমাকে এ হৃদয়বিদারক ঘটনা কালিমাযুক্ত করেছিল। বাতিলের বিরুদ্ধে আপসকামী না হওয়ায় ইরাকের কারবালা প্রান্তরে ইমাম হুসাইনকে শির দিতে হয়েছিল। এই মর্মান্তিক ঘটনা যেন আশুরার মহিমাকে ম্লান করে দিয়েছিল। আজ অনেকের কাছে আশুরা বলতে কারবালার এ নির্মম ঘটনাকে বোঝায়। এ যেন মহা তরঙ্গের নিচে সাধারণ একটি তরঙ্গের হারিয়ে যাওয়া। আল্লাহর লীলাও বোঝা বড় কঠিন। যে দিন বিশ্বের মহা প্রতাপশালী জালিম ফিরাউনের হাত থেকে আল্লাহ তায়ালা সত্য ও ন্যায়ের প্রতীক মুসা আ: কে নিষ্কৃতি দিলেন সে দিনই ঘটল ইসলামের ইতিহাসের এ ঘৃণ্য যবনিকাপাত। ফেরাউন ও মুসার দ্বন্দ্ব ছিল আল্লাহর রবুবিয়্যাত নিয়ে- আল্লাহকে স্বীকার করা ও অস্বীকার করা নিয়ে এ দিকে হুসাইন রা: এর লড়াই ছিল জালিম শাহির বিরুদ্ধে। এতে রাজনৈতিক মতবিরোধও ছিল। 
কুসংস্কার : আশুরা দিবসে ইয়াজিদকে গালাগাল করার মধ্যে কোনো সওয়াব নেই। হুসাইনি চেতনা বহন করার মধ্যে রয়েছে ঈমানি শক্তির উপাদান। এ উপলক্ষে বিশিষ্ট সাহাবি মুআবিয়া রা:-কেও কিছু লোক সমালোচনার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করে। কারণ তিনি ছিলেন ইয়াজিদের পিতা। আমাদের মনে রাখতে হবে মুআবিয়া রা: ছিলেন একজন নেতৃস্থানীয় সাহাবি। সাহাবিদের সমালোচনা ও তাদের গালমন্দ থেকে বিরত থাকতে রাসূলুল্লাহ সা: স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন। তাজিয়া মিছিল করা শিয়াদের একটি অপসংস্কৃতি। 
আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাতের আকিদা কারবালা ও এ ধরনের ঘটনার ব্যাপারে মধ্যপন্থী। অনেককে দেখা যায়, আশুরা দিবসে সাওমের পরিবর্তে খিচুড়ি খাওয়ার অনুষ্ঠান করে তা বিলিয়ে দেন। এটিও সুন্নাহর বিপরীত একটি বদরুসুম। 
লেখক : সিনিয়র মুহাদ্দিস

যাকাত কেন দিবেন ? কোথায় দিবেন ?



ইসমাইল খান  :

ম্মানিত মুসলিম ভাই ও বোনেরা। আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ ।
 রহমত, বরকত, মাগফিরাত ও নাজাতের আহবান নিয়ে আমাদের মাঝে সমাগত পবিত্র মাহে রমযান।

মহান আল্লাহ তায়ালা তার প্রিয় বান্দাদের তাকওয়া বা আল্লাহ ভীতি অর্জনের মূল লক্ষই নির্ধারণ করেছেন এ মাসে। সূরা আল বাকারার ১৮৩ নম্বর আয়াতে মহান আল্লাহ বলেন ‘‘হে ঈমানদার লোকেরা তোমাদের উপর রোজা ফরয করা হয়েছে যেমন ফরয করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের উপর যেন তোমরা তাকওয়া অর্জন করতে পারো ”।

রোজা আমাদের যেমন ক্ষুধায় কাতর দুঃখী মানুষের প্রতি মমত্ববোধ জাগিয়ে তোলে তেমনি প্রদান করে ধৈর্য্য, একনিষ্ঠতা, ত্যাগ, সহমর্মিতা ও ভ্রাতৃত্ববোধের অনুপম শিক্ষা আর প্রেরণা যোগায় শোষণ, ক্ষুধা, দারিদ্রতা ও বৈষম্যমুক্ত একটি আদর্শিক সমৃদ্ধ সমাজ ও দেশ গড়ার।

রমযানে একমাস সিয়াম সাধনার পর ক্ষুধা, দারিদ্রতা ও বৈষম্য মুক্ত একটি আদর্শিক সমাজ গড়ার মহান লক্ষযে আল্লাহ সমাজের বিত্তশালীদের উপর যাকাত ফরজ করে দিয়েছেন এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তায়ালা বলেন ধ্বংশ ওইসব মুশরিকদের জন্য যারা যাকাত দেয়না এবং আখিরাতকে অস্বীকার করে” (হা-মীম আস-সিজদা ৬-৭)

যাকাত কি ?
যাকাত ইসলামী অর্থব্যবস্থার একটি ফরজ (অতীব গুরুত্বপূর্ণ ) বিধান। ঈমান আনা ও নামাজ আদায়ের পর যাকাত নিয়মিত আদায় করেই একজন বিত্তবান ব্যক্তি মুসলিম সমাজের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করতে পারেন। যাকাতের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে অপরের জন্য স্বার্থত্যাগের মানসিকতা সৃষ্টি, কৃপণতা বর্জন, দারিদ্র্য বিমোচন ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনের মাধ্যমে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভ করা।

 যাকাত কাকে বলে :
যাকাতশব্দটির অর্থ পবিত্রকরণ, পরিশুদ্ধকরণ ও প্রবৃদ্ধি। শরিয়তের পরিভাষায়- ইসলাম নির্দেশিত পন্থায় সচ্ছল মুসলিম নারী ও পুরুষ কর্তৃক সামাজিক সহায়তা এবং জনকল্যাণের উদ্দেশ্যে কুরআনে বর্ণিত নির্দিষ্ট আটটি খাতে নির্দিষ্ট সম্পদ থেকে, নির্দিষ্ট পরিমাণ ও নির্দিষ্ট সময়ে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন, আত্মশুদ্ধি ও সম্পদের পবিত্রতার জন্য যে সম্পদ ব্যয় করা হয় তাই যাকাত।

 যাকাত কেন দিবেন ?
নিসাব [সাধারণভাবে ৫২.৫ তোলা (ভরি) রুপা বা ৭.৫ তোলা স্বর্ণ বা এর সমমূল্যের সম্পদ) পরিমাণ সম্পদের অধিকারী ব্যক্তির ওপর যাকাত বাধ্যতামূলক। কুরআন মাজিদে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে ৮২ বার যাকাতের কথা বলা হয়েছে। বলা হয়েছে, ‘তোমরা নামাজ কায়েম করো এবং যাকাত দাও’ (সূরা বাকারা : ১১০)।

মহানবী সা: বলেছেন, ‘ইসলামের মূল ভিত্তি পাঁচটি : এই সাক্ষ্য দেয়া যে, আল্লাহ ব্যতীত কোনো ইলাহ নেই এবং মুহাম্মদ সা: আল্লাহর বান্দা ও রাসূল, নামাজ কায়েম করা, যাকাত আদায় করা, হজ সম্পন্ন করা এবং রমজানের রোজা রাখা’ (মিশকাত)। যাকাত বাধ্যতামূলক হওয়ার ব্যাপারে সব যুগের এবং সব দেশের মুসলিম উম্মাহ একমত। সুতরাং যাকাত অস্বীকারকারী মুরতাদ হবে। মহান আল্লাহ বলেন, ‘যারা যাকাত দেয় না তারা হলো সেসব লোক, যারা আখিরাতের প্রতিও অবিশ্বাসী’ (সূরা হা-মীম আস-সাজদা : ৭)।

যাদের ওপর যাকাত ফরজ :
প্রাপ্তবয়স্ক এবং বুদ্ধি-জ্ঞানসম্পন্ন নারী ও পুরুষের মালের ওপর কিছু শর্তসাপেক্ষে যাকাত ফরজ করা হয়েছে। কোনো অমুসলিম ব্যক্তির ওপর যাকাত ধার্য করা যাবে না। অপ্রাপ্তবয়স্ক কোনো বালক, বালিকা এবং পাগলের মালের ওপর যাকাত ফরজ নয়।

যেসব শর্তসাপেক্ষে উপরোক্ত ব্যক্তির মালের ওপর যাকাত ধার্য হয় তা হলো : ১. মালের ওপর পূর্ণ একটি (চন্দ্র) বছর তার পূর্ণ মালিকানা বিদ্যমান থাকতে হবে, ২. মাল এমন প্রকৃতির হতে হবে যার ওপর যাকাত ধার্য হতে পারে, ৩. মাল নিসাব পরিমাণ বা নিসাবের মূল্যের সমপরিমাণ হতে হবে এবং ৪. ওই নিসাব পরিমাণ মাল তার মৌলিক প্রয়োজনের অতিরিক্ত হতে হবে।

মালিকানা বলতে, ‘কোনো বস্তু ও ব্যক্তির মধ্যকার শরিয়াসম্মত যোগসূত্রকে বুঝায়, যা ব্যক্তিকে ওই বস্তু নিঃশর্তভাবে ভোগ ব্যবহারের অধিকার দেয় এবং অপর লোকের হস্তক্ষেপে বাধা দেয়।নগদ অর্থ, সোনা-রুপা, ব্যবসায়িক পণ্য, পালিত পশু, কৃষিজ পণ্য ইত্যাদির ওপর যাকাত ধার্য হয়। ওয়াকফ সম্পত্তি, সরকারি সম্পত্তি, নিত্যপ্রয়োজনীয় ব্যবহার্য জিনিস, বাড়িঘর ইত্যাদির ওপর যাকাত ধার্য হয় না। কৃষিজ ফসল, ফলমূল ইত্যাদির ক্ষেত্রে পূর্ণ এক বছর মালিকের দখলে থাকা শর্ত নয়। তা যখন আহরিত হয় তখন তার ওপর যাকাত (উশর) ধার্য হয়। সম্পদের চল্লিশ ভাগের এক ভাগ অর্থাৎ শতকরা আড়াই ভাগ যাকাত হিসেবে প্রদান করতে হবে। এ হিসেবে অতিরিক্ত মালের ওপরও যাকাত ফরজ হবে। যাকাত নগদ অর্থ দ্বারাও পরিশোধ করা যায় এবং সংশ্লিষ্ট মাল দ্বারাও পরিশোধ করা যায়।

তৈজসপত্র, অলঙ্কার, বাড়িঘর ও বন্ধকী মালের যাকাত : সাংসারিক কাজে ব্যবহৃত জিনিসপত্র যেমন হাঁড়ি-পাতিল, থালা-বাটি, বিছানাপত্র, পোশাক-পরিচ্ছদ ইত্যাদির ওপর যাকাত ধার্য হবে না। হানাফি মাজহাব মতে, ব্যবহৃত অলঙ্কারপত্রের যাকাত দিতে হবে। মূল্যবান পাথর যেমন- হীরক, মণিমুক্তা ইত্যাদির তৈরি অলঙ্কারের ওপর যাকাত ধার্য হবে না। বাড়ি-ঘর, দালান-কোঠা ও যানবাহনের ওপরও যাকাত ধার্য হবে না। তবে এগুলো ভাড়ায় খাটিয়ে যে আয় পাওয়া যাবে, তা মালিকের অন্যান্য আয়ের সাথে যুক্ত হবে এবং যথানিয়মে এর ওপর যাকাত ধার্য হবে। বন্ধকী মাল বন্ধকমুক্ত হয়ে মালিকের দখলে ফিরে আসার পর এর ওপর যাকাত ফরজ হবে।

ব্যবসায়িক পণ্যের যাকাত : ব্যবসায়ের ইচ্ছায় উৎপাদিত বা ক্রয়কৃত পণ্য দ্বারা বাস্তবে ব্যবসায়িক কার্য সম্পাদিত হলে ওই পণ্যকে ব্যবসায়িক পণ্যবলে। ব্যবসায়িক পণ্যের নিসাব স্বর্ণ ও রৌপ্যের নিসাবের সমপরিমাণ হলে তার প্রতি চল্লিশ টাকায় এক টাকা যাকাত ধার্য হবে। ব্যবসায়ের কেবল আবর্তনশীল মূলধনের যাকাত দিতে হবে। ব্যবসায়ের স্থাবর সম্পত্তি যেমন দালান-কোঠা, জমি, যন্ত্রপাতি ইত্যাদির ওপর যাকাত ধার্য হবে না। মসজিদ-মাদরাসা বা অনুরূপ জনকল্যাণমূলক কাজের উদ্দেশ্যে ওয়াকফকৃত সম্পত্তি দ্বারা ব্যবসা করা হলেও তার ওপর যাকাত ধার্য হবে না। যেসব মালের ওপর সাধারণত যাকাত ধার্য হয় না সেসব মাল ব্যবসায়িক পণ্য হলে তার ওপর জাকাত দিতে হবে। যেমন পাথর, মণিমুক্তা, আসবাবপত্র, তৈজসপত্র, যন্ত্রপাতি, যানবাহন ইত্যাদি।

ঋণ ও যাকাত :
কোনো ব্যক্তির ঋণমুক্ত হওয়াও তার ওপর যাকাত ফরজ হওয়ার জন্য একটি অপরিহার্য শর্ত। তার ঋণের অংক বিয়োগ করার পর নিসাব পরিমাণ মাল না থাকলে তার ওপর যাকাত ফরজ হবে না। তবে ঋণদাতাকে তার প্রদত্ত ঋণ ফেরত পাওয়ার পর যথারীতি এর জাকাত দিতে হবে। যে ঋণ ফেরত পাওয়ার আশা নেই ওই ঋণ ফেরত পাওয়া গেলে অতীতের বছরগুলোর এমনকি ফেরত পাওয়ার বছরের যাকাত প্রদান করতে হবে না। বরং পরবর্তী বছর থেকে যাকাত দিতে হবে। ঋণ গ্রহণ করে ব্যবসায়ের জমি, দালান-কোঠা, যন্ত্রপাতি ও পণ্য ক্রয় করা হলে কেবল পণ্য ক্রয় বাবদ যতটুকু ঋণ খরচ হয়েছে তা থেকে ততটুকু বিয়োগ করার পর ওই পণ্যের ওপর জাকাত ধার্য হবে। জাকাত দেয়ার অভিপ্রায় : যাকাতদাতার যাকাত দানকালে বা মাল হতে যাকাতের অংশ পৃথক করাকালে তার অভিপ্রায় থাকতে হবে যে, সে তার যাকাত পরিশোধ করছে। অভিপ্রায়হীন সব মাল দান করলেও যাকাত আদায় হবে না।

যাকাত পরিশোধের সময় :

যাকাত ফরজ হওয়ার সাথে সাথেই তা পরিশোধ করা ফরজ হয়। যাকাত ফরজ হওয়ার আগে অগ্রিম পরিশোধ করলে তা ধর্তব্য হবে না। যাকাত ফরজ হওয়ার পর পরিশোধের নির্দিষ্ট সময় আসার আগেই যাকাত দেয়া যায়।

কোন কোন খাতে যাকাত দিবেন ?

কুরআনে আল্লাহ তায়ালা যাকাত প্রদানের জন্য শুধু তাকিদই প্রদান করেননি বরং বিশদভাবে তা ব্যয় করার খাতগুলো বলে দিয়েছেন- এ সদকা তো ফকির মিসকিনদের জন্য এবং তাদের জন্য যারা সদকার কাজে নিয়োজিত এবং তাদের জন্য যাদের মন জয় করা উদ্দেশ্য এবং শৃক্সখল মুক্ত করার জন্য। ঋনগ্রস্থদের সাহায্যের জন্য। আল্লাহর পথে এবং মুসাফিরদের জন্য ব্যয় করার উদ্দেশ্যে অবশ্য পালনীয় ফরয আল্লাহর পক্ষ থেকে এবং আল্লাহ সবকিছু সম্পর্কে ওয়াকিফহাল এবং মহাজ্ঞানী।”(সূরা আত তওবাহ ঃ ৬০)
এ আয়াতে যাকাতের আটটি খাতের কথা বলা হয়েছে।(১) ফকির বা দরিদ্র (২) মিসকিন অভাবগ্রস্থ অথচ অন্য কারো নিকট হাত পাতে না (৩) যাকাত আদায় ও বন্টনে নিয়োজিত কর্মচারী (৪) নওমুসলিম (মন জয় করার উদ্দেশ্যে) (৫) শৃংখলমুক্ত করার জন্য (৬) ঋনগ্রস্থদের জন্য (৭) জিহাদ ফি সাবিলিল্লাহ বা আল্লাহর পথে এবং (৮) পথিক বা মুসফিরের জন্য।

যাকাত এ আটটি খাতেই ব্যয় করা যায় এর বাইরে নয়। তবে যাকাতের সমুদয় অর্থ সকল খাতেই ব্যয় করতে হবে বা যে কোন একটি খাতে ব্যয় করতে হবে এমন কোন বাধ্যবাধকতা নেই। আপনি ইচ্ছা করলে আটটি খাতের যে কোন একটি খাতে ও ব্যয় করতে পারেন। আবার উল্লিখিত একাধিক খাতেও ব্যয় করতে পারেন।

কোথায় যাকাত দিবেন ?
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের ধর্ম মন্ত্রনালয়ের একটি যাকাত তহবিল রয়েছে । দেশের অধিকাংশ ব্যাংকে সরকারী যাকাত তহবিল নামে একাউন্টে দিতে পারেন ।

অত্র দক্ষিণ ভবানীগঞ্জ এনায়েতিয়া মাদরাসার গোরাবা ফান্ড রয়েছে, যার মাধ্যমে সারাবছর অসংখ্য মেধাবী ও দরীদ্র ছাত্র/ছাত্রীদের আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়। এ ফান্ডের একমাত্র আয়ের উৎস আপনাদের দানকৃত যাকাতের অর্থ। আপনার যাকাতের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ অত্র মাদরাসার যাকাত ফান্ডে দান করার অনূরোধ করছি। এ খাতে আপনার দান অত্র মাদরাসার প্রায় ১৫০ জন ছাত্র/ছাত্রীর শিক্ষা জীবন হবে আলোকিত। দেশের আদর্শ নাগরিক তৈরীতে যাদের ভূমিকা অপরিসীম।
যাকাতের অর্থ পাঠানোর ঠিকানা : ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড, লক্ষ্মীপুর শাখা, হিসাব নং- 26921

অথবা   


করুন  এই নাম্বারে- +88 01845 985 982

বিনীত-
মুহাম্মদ ইসমাইল হোসাইন খান
প্রধান শিক্ষক ও সেক্রেটারী
দক্ষিন ভবানীগঞ্জ এনায়েতিয়া ইবতেদায়ী মাদরাসা
ভবানীগঞ্জ, সদর- লক্ষ্মীপুর।
বিকাশ নং- +88 01845 985 982